খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শিশুর জন্মগত ত্রুটি কেন হয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়

দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ


আজকাল অনেক দম্পতিই সন্তান নিতে দ্বিধায় ভোগেন। স্বাভাবিক সন্তান হবে তো! এমন আশঙ্কার কারণও অবশ্য আছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণা বলছে, দেশে প্রতিবছর জন্মগত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে জন্মানো নবজাতকের হার ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জন্মগত ত্রুটি মানে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ই শিশুর গঠনগত কোনো শারীরবৃত্তীয় সমস্যা। অনেক সময় জন্মগত ত্রুটির কারণে শিশুকে বাঁচিয়ে রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। নবজাতক শিশুমৃত্যুর প্রায় ৩০-৫০ শতাংশের জন্যই দায়ী জন্মগত ত্রুটি।

জন্মগত ত্রুটির ধরন

শারীরিক জন্মত্রুটি নিয়ে জন্মানো অর্ধেক শিশুর একাধিক অঙ্গের ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষ করা যায়। পরিমাণ অনুযায়ী এই ধরনের ত্রুটি সাধারণত দুই রকম।

মাইনর ত্রুটি: এগুলো শিশুর জন্য বড় কোনো ক্ষতির কারণ নয়। যেমন অতিরিক্ত স্তনবৃন্ত, বাড়তি আঙুল ইত্যাদি।

মেজর ত্রুটি: এগুলো শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যেমন ঠোঁটকাটা, তালুকাটা, হার্টে ছিদ্র, পায়ুপথ না থাকা, স্পাইনা বায়ফিডা (মেরুদণ্ডের জন্মত্রুটি)।

জন্মগত ত্রুটির কারণ কী

শিশুর শারীরিক জন্মত্রুটির ১০ শতাংশ ঘটে জেনেটিক কারণে। ১৮ শতাংশ জন্মত্রুটির কোনো কারণ জানা যায় না। তবে যেসব বিষয় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিবেচনা করা হয়, তা হলো—

  • বংশগত কারণ।

  • অপুষ্টিজনিত কারণ।

  • রক্ত সম্পর্কীয় বিয়ে।

  • গর্ভকালীন সময়ে ধূমপান (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ) ও মাদকাসক্তি, রুবেলা, টক্সো, এইডস ও অন্যান্য সংক্রমণ এবং অন্তঃসত্ত্বা মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা অনিয়ন্ত্রিত থাইরডের সমস্যা।

  • গর্ভকালে চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া মা যদি বিভিন্ন টনিক নেন, কবিরাজি, গাছগাছালির চিকিত্সা ও ক্ষতিকর ওষুধ সেবন করেন, তেজষ্ক্রিয়তার সংস্পর্শে (যেমন এক্স–রে রেডিয়েশন) আসেন অথবা দূষিত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করেন, তাহলে গর্ভের শিশুর ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

    • সদ্য জন্ম নেওয়া প্রতি ১ হাজার শিশুর প্রায় ৮ জনের হার্টে জন্মত্রুটি থাকতে পারে। বিশেষত, অপরিণত (জন্মকালীন ওজন ২ হাজার ৫০০ গ্রামের নিচে) বা অকালজাত (গর্ভকাল ৩৭ সপ্তাহের কম) নবজাতকে এই সমস্যা দেখা যায় বেশি।

    • হার্টের জন্মগত রোগ মূলত দুই রকম—সায়ানোটিক ও এসায়ানোটিক। সায়ানোটিক গ্রুপের মধ্যে বেশি দেখা যায় ‘ফেলটস টেট্রালজি’। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে এদের শরীর নীল হয়ে যায়। অন্যদিকে এসায়ানোটিক কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজে শিশুর শরীরে নীলবর্ণ ভাব থাকে না। শিশু ঘনঘন সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে থাকে। এসব শিশু বুকের দুধ একনাগাড়ে টানতে পারে না। একটু টেনেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু পেট ভরে না তাই অল্প সময়ের মধ্যেই জেগে উঠে কাঁদতে থাকে। অত্যধিক ঘামে। শিশু ঠিকমতো বাড়ে না। বারবার অসুস্থ হয়। বেশির ভাগ হার্টের জন্মগত ত্রুটি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সায় সারিয়ে তোলা সম্ভব।

    • বংশগত, জিনের গঠনগত ত্রুটি ও ক্রোমোজোমের অস্বাভাবিকতা কিছু রোগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যেমন ডাউন ও টারনার সিনড্রোম। গর্ভাবস্থায় জার্মান মিজলস (রুবেলা) সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, লুপাস রোগ, ক্ষতিকর ওষুধ সেবন (লিথিয়াম, ইথানল, থালিডোমাইড ও খিঁচুনি বন্ধের ওষুধ) করলে এসব সমস্যা হতে পারে।

    • কাটা ঠোঁট ও কাটা তালুও খুবই পরিচিত একটি জন্মগত ত্রুটি। সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার করে এই ত্রুটি সম্পূর্ণ সারিয়ে তোলা যায়। শিশুর ৩ মাস বয়সের দিকে শিশুসার্জনের মাধ্যমে কাটা ঠোঁট সারিয়ে তোলা যায়। আর ৯-১২ মাস বয়সে শিশু কথা বলতে শেখার আগেই কাটা তালু চিকিত্সা করে ফেলতে হয়।

    • পায়ুপথ না হওয়ার ত্রুটি নিয়েও জন্মায় অনেক শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর পায়ুপথ পুরোপুরি তৈরি থাকে না। তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র শিশুর পায়ুপথে রেখে তাপ নির্ণয় করতে গেলে ও শিশু জন্মের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি প্রথম পায়খানা না হয়ে থাকে, তবে শিশুর এই জন্মত্রুটি আছে কি না, সন্দেহ করা হয়। সার্জাারির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

    • হাইপোস্পেডিয়াস সমস্যা নিয়েও জন্মায় শিশু। এ ক্ষেত্রে জন্মগতভাবে শিশুর মূত্রনালির মুখ স্বাভাবিক স্থানে লিঙ্গের অগ্রভাগে না থেকে লিঙ্গের নিচের দিকে মাঝামাঝি দেখতে পাওয়া যায়। অবহেলা না করে অতিসত্বর শিশুসার্জন দেখানো উচিত।

      • প্রতিটি গর্ভধারণ পরিকল্পিত হওয়া উচিত। এতে অনাগত সন্তানেরও জটিলতা কম হয়। কিছু নিয়ম মেনে শিশুর জন্মগত ত্রুটির সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনা যায়। এই যেমন

      • গর্ভধারণের আগে মায়ের রুটিন চেক আপ করে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনো জেনেটিক রোগে আক্রান্ত কি না জেনে নিতে পারলে অনাগত সন্তানের সুস্থতা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়।

      • মা যদি আগে থেকে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন (যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোনো বাতরোগ বা মৃগীরোগের) তবে আগেভাগে চিকিত্সকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

      • নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়েও অনেক শিশুর জন্মগত ত্রুটির কারণ।

      • মায়ের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকা অবস্থায় সন্তান নিলে এবং দুই সন্তানের মধ্যে ন্যূনতম ২ বছর বিরতি থাকলে অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।

      • গর্ভধারণের ১ মাস আগে থেকে গর্ভকালীন প্রথম ২ মাস পর্যন্ত মা দৈনিক ৪০০-৮০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সেবন করলে বেশ কিছু ত্রুটি এড়ানো সম্ভব।

      • গর্ভকালীন অপুষ্টি রোধ, ধূমপান ও মাদকাসক্তি মুক্ত থাকলেও অনেক ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায়।

      • গর্ভপূর্ব ও গর্ভকালীন নিয়মিত শারীরিক চেকআপ খুব জরুরি।

      • আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, গর্ভকালীন সময় কোনো ক্রমেই চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া যাবে না। কারণ, অনেক ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর জন্য ক্ষতিকর ও অনিরাপদ। একইভাবে এক্স রে, সিটি স্ক্যানের মতো যেসব পরীক্ষায় তেজস্ক্রিয় রশ্মি ব্যবহৃত হয়, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের সেসব পরীক্ষা করা যাবে না। অন্য যেকোনো কারণেই চিকিত্সকের কাছে যাওয়া হোক না কেন, তাকে জানাতে হবে যে রোগী অন্তঃসত্ত্বা। এমনকি সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করলেও জানাতে হবে। এতে সব দিক বুঝে চিকিত্সক প্রেসক্রাইব করতে পারেন।

        আজকাল আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নানা রকম পরীক্ষা করে শিশুর অস্বাভাবিকতা আছে কি না, আগে থেকেই জানা যায়। গর্ভকালীন ২০ সপ্তাহের পর (১৮-২২ সপ্তাহ) জন্মগত ত্রুটি আছে কি না, জানার জন্য একটি বিশেষ ধরনের আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। একে বলে অ্যানোম্যালি স্ক্যান। প্রয়োজন মনে হলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়ে গর্ভকালে মায়ের রক্তে আলফা ফিটো প্রোটিনের মান, অ্যামনিওসেনটোসিস বা কোরিওভিলাস বায়োপসি ইত্যাদি করা যায়।

        পরিবারের সচেতনতা অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটি এড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। প্রতিটি শিশু সুস্থভাবে জন্ম দিতে তাই গর্ভধারণের আগে থেকেই গর্ভকালে সঠিক সিদ্ধান্ত জরুরি।

        লেখক: সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম